মুম্বাই বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে

Mumbai blast ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে তিনটি বিস্ফোরণের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ফরেনসিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে৻

তদন্তকারীরা তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন৻

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন দোষীদের খুঁজে বের করতে প্রত্যেকটি বৈরি সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ চালানো হচ্ছে৻

তিনি আরো বলেছেন সোনার বাজার ও গহনার দোকানগুলোতে যেসব নিরাপত্তা ক্যামেরা ছিল সেগুলোর থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবার আশা তারা করছেন৻

সোনার বাজার ও গহনার দোকানগুলো যে এলাকায় সেখানেই বুধবার সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ দুটি ঘটে৻

মুম্বাইয়ের পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণগুলো হয়েছে নগরীর ব্যাস্ত জাভেরি বাজার, অপেরা হাউজ এবং দাদার এলাকায়৻

সন্ধ্যা সাতটার দিকে কাজ শেষে ঘরে ফেরার ব্যস্ত সময়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বিস্ফোরণগুলো ঘটে৻

সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ১৭৻

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চৌহান বলেছেন পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে৻

২০০৮ সালের নভেম্বরে এক সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ১৭০ জনের মুত্যুর পর মুম্বাইতে এই প্রথম বড় ধরনের কোন হামলা হল৻

তবে বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, এটা নিশ্চিত যে ২০০৮ এর সাথে তুলনা করার মত কোন হামলা হয়নি৻

মুম্বাই থেকে বিবিসির সংবাদদাতা রজনী বৈদ্যনাথন জানিয়েছেন, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের জাভেরি বাজারে বিস্ফোরণটি হয়েছে একটি সোনার দোকানে৻

নগরীর কেন্দ্রে দাদারে বিস্ফোরণ হয়েছে একটি বাস স্টপের পাশে দাঁড়ানো একটি ট্যাক্সিতে৻

তদন্তের জন্য দিল্লি এবং হায়দ্রাবাদ থেকে বিস্ফোরণের জায়গাগুলোতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছে৻

চরম সতর্কতা জারি

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর মুম্বাইতে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে৻

তিনি বলেছেন, কম্যান্ডো বাহিনীকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে৻

দিল্লি এবং কলকাতা ছাড়াও কয়েকটি বড় বড় শহরেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে৻ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরাম জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন৻

কেউ দায় স্বীকার করেনি

এখনো কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি৻ সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো কারো দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়নি৻

তবে কোন কোন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ২০০৮ এর ঘটনায় একমাত্র বেঁচে থাকা হামলাকারী পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ আজমল কাসফের জন্মদিন ছিল বুধবার৻

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মুম্বাইতে সর্বশেষ এই হামলার নিন্দা করেছে৻

উল্লেখ্য যে ২০০৮ এর সন্ত্রাসী হামলার জন্য ভারত মূলত পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠি লস্কর ই তৈয়েবাকে দায়ী করে৻

নব্বইয়ের দশক হতে থেকে থেকেই মুম্বাইতে বড়ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে৻

১৯৯৩ তে শহর জুড়ে প্রায় ডজন খানেক বিস্ফোরণে আড়াইশরও বেশি লোক মারা যায়৻ ২০০৬ সালের জুলাইতে নগরীর রেল নেটওয়ার্কের হামলায় নিহত হয়েছিল প্রায় দুশর মত লোক৻